Dr. Al-Amin Sarkar

তৃতীয় ও সর্বশেষ ধাপে মানুষের যে দাঁত গজায়, তাকে আক্কেল দাঁত বা উইসডম টিথ বলা হয়।

সাধারণত ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে এই দাঁত গজায়। বেশির ভাগ মানুষেরই চারটি বা দুই জোড়া আক্কেল দাঁত গজায়, যদিও এর বেশি বা কম হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

প্রথমত, অনেক সময়ই আক্কেল দাঁত সোজাভাবে না গজিয়ে কোনাকুনি করে গজায় কিংবা ভেতর বা বাইরের দিকে বেঁকে থাকে, কখনো প্রায় শুয়ে থাকে। এমন বাঁকা গঠনের কারণে পার্শ্ববর্তী দাঁতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি পাশের চোয়ালের হাড় বা স্নায়ুরও সমস্যা করতে পারে। দ্বিতীয়ত, কখনো কখনো আক্কেল দাঁত মাড়ি ভেদ করে সম্পূর্ণরূপে না গজিয়ে আধাআধি মাড়ির ভেতরই রয়ে যায়। আধা গজানো এই দাঁতের ফাঁকে বারবার সংক্রমণ হতে পারে, ময়লা বা জীবাণু জমে, মাড়ি ফুলে যায়, ব্যথা করে এবং রক্তপাতও হতে পারে।

আক্কেল দাঁত ঘন ঘন এই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ালে একটা ওপিজি এক্স-রে করে দেখতে হবে তার গঠন, অবস্থান কেমন এবং এটি সম্পূর্ণভাবে গজিয়েছে কি না। যদি এক্স-রেতে প্রমাণিত হয় যে এটি বিপজ্জনকভাবে বেঁকে আছে, পাশের দাঁতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, অথবা এমন মনে হয় যে এটির পক্ষে আর সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসা সম্ভব নয় কিংবা এর কারণে বারবার প্রদাহ বা সংক্রমণ হচ্ছে, তবে চিকিৎসক দাঁতটি তুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

বিভিন্ন অবস্থান: সাধারণত আক্কেল দাঁত বা উইজডম টিথ পর্যাপ্ত স্থান না পেয়ে চোয়ালের ভেতরে বা নিচের দিকে থাকতে পারে। আক্কেল দাঁতের এই অবস্থানগুলোকে চার ভাগে ভাগ করা যায়। আক্কেল দাঁত তুলে ফেলার আগে এঙ্-রে’র সাহায্যে অবস্থান জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
ব্যথা: আক্কেল দাঁত উঠার কারণে দাঁতে ব্যথা হলে পার্শ্ববর্তী স্থানে ডেন্টাল ক্যারিজ আক্রান্ত দাঁতের উপস্থিতি নির্ণয় করা প্রয়োজন। অনেকে ক্ষেত্রে পাশের দাঁতে চাপ ও প্রদাহের কারণে ব্যথা হতে পারে। পেরিকরোনাইটিস : বেরিয়ে আসা আক্কেল দাঁতটির উপরিভাগ যে নরম টিস্যুর দ্বারা আবৃত থাকে তার ভেতরে খাদ্যকণা জমে থাকার কারণে অসংখ্য জীবাণুর জন্ম হয় এবং প্রদাহ বা ইনফেকশন সৃষ্টি হয়।
এ রোগের লক্ষণ

১. আপনার বয়স যদি হয় ১৮-৩০ বছর।

২. কয়েকদিন ধরে নিচের চোয়ালের সর্বশেষ প্রান্তে চাপা চাপা ব্যথা অনুভব করেন।

৩. খাবার সময় বা দাঁত ব্রাশ করার সময় ওই স্থানে ব্যথা অনুভব হচ্ছে।

৪. মুখে দুর্গন্ধ হচ্ছে।

৫. ধীরে ধীরে মুখ ফুলে যাচ্ছে এবং সামান্য চাপ লাগলে পুঁজ বেরুচ্ছে।

৬. হা করতে কষ্ট হচ্ছে, কোনো কিছু চিবিয়ে খেতে পারছেন না। শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, দুর্বল অনুভব করছেন।

চিকিৎসা: এ ক্ষেত্রে ওই দাঁতের এক্স-রে করতে হবে। এতে যদি দেখা যায় দাঁতের গতি ভালো তাহলে দাঁতের উপরস্থ অপারকুলাম টিস্যুগুলো ছোট একটি অপারেশনের মাধ্যমে অপসারণ করলে দাঁতটি স্বাভাবিক গতিতে গজাতে পারবে। কিন্তু যদি দেখা যায়, দাঁতটির অবস্থান স্বাভাবিক নয় বা হাড়ের মধ্যে আছে; টিস্যু অপসারণ করলেও স্বাভাবিকভাবে দাঁতটি গজাবে না সে ক্ষেত্রে দাঁত তুলে ফেলাই উত্তম। অনেক সময় দেখা যায় ক্যারিজ হয়ে দাঁতের উপরের অংশ একবারেই নষ্ট হয়ে গেছে, সে ক্ষেত্রে আক্রান্ত দাঁতটি তুলে ফেলাই ভালো, তা না হলে ভবিষ্যতে পাশের ভালো দাঁতটি আক্রান্ত হতে পারে।

Leave a Reply